বলিউডের নব্বই দশক : হিন্দি সিনেমার এক যুগসন্ধিক্ষণ
নব্বইয়ের দশক—বলিউডের ইতিহাসে এক আশ্চর্য রূপান্তরের কাল। একদিকে অমিতাভ বচ্চনের ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ যুগের বিদায়, অন্যদিকে শাহরুখ খান, আমির খান ও সালমান খানের উত্থান; একদিকে অ্যাকশননির্ভর প্রতিশোধের গল্প, অন্যদিকে প্রেম, পরিবার, বন্ধুত্ব ও প্রবাসী ভারতীয় জীবনের নতুন আখ্যান। উদারীকরণ, স্যাটেলাইট টেলিভিশন, মিউজিক চ্যানেল, অডিও ক্যাসেট এবং বিশ্বায়নের ঢেউ ভারতীয় সমাজের মতো হিন্দি সিনেমার ভাষা, নির্মাণশৈলী ও দর্শক-রুচিকেও আমূল বদলে দিয়েছিল।
‘বলিউডের নব্বই দশক: হিন্দি সিনেমার এক যুগসন্ধিক্ষণ’ সেই বহুবর্ণিল সময়ের চলচ্চিত্র, তারকা, সংগীত, নির্মাতা এবং সামাজিক বাস্তবতার এক নিবিড় অনুসন্ধান। এই বইয়ে উঠে এসেছে রোমান্টিক নায়কের পুনর্জন্ম, নায়িকাদের পরিবর্তিত অবস্থান, সমান্তরাল ও বাণিজ্যিক সিনেমার টানাপোড়েন, অ্যাকশন ছবির জনপ্রিয়তা, কমেডির স্বতন্ত্র ধারা এবং পারিবারিক মেলোড্রামার বিপুল সাফল্যের কথা। আলোচিত হয়েছে যশ চোপড়া, সুভাষ ঘাই, মহেশ ভাট, মণি রত্নম, রাম গোপাল ভার্মা, সুরজ বরজাতিয়া, আদিত্য চোপড়া ও করণ জোহরের মতো নির্মাতাদের স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রভাষা।
নব্বইয়ের বলিউডকে সংগীত ছাড়া কল্পনা করা যায় না। নদীম–শ্রবণ, যতীন–ললিত, এ আর রহমান, অনু মালিক থেকে কুমার শানু, উদিত নারায়ণ, অলকা ইয়াগনিক ও কবিতা কৃষ্ণমূর্তি—তাঁদের সুর ও কণ্ঠ কীভাবে একটি প্রজন্মের প্রেম, বিরহ এবং স্মৃতির ভাষা হয়ে উঠেছিল, বইটিতে রয়েছে তারও বিশদ আলোচনা।
শুধু সাফল্যের আলো নয়, এই দশকের অন্ধকার দিকও এখানে অনুপস্থিত নয়—আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব, স্বজনপোষণ, তারকাব্যবস্থার ক্ষমতা, নারীর অসম উপস্থাপন, নকল ও মৌলিকতার বিতর্ক এবং বদলে যাওয়া বাজার-অর্থনীতি বিশ্লেষিত হয়েছে নির্মোহ দৃষ্টিতে।
চলচ্চিত্রপ্রেমী, গবেষক কিংবা স্মৃতিকাতর পাঠক—সবার জন্যই এ বই নব্বইয়ের বলিউডকে নতুন করে দেখা, বোঝা এবং অনুভব করার এক প্রাণবন্ত আমন্ত্রণ; যে দশক পুরোনো হিন্দি সিনেমার উত্তরাধিকার বহন করেও একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক বলিউডের ভিত্তি নির্মাণ করেছিল।
